BD Campus || Online Newsportal in Bangladesh

পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাওয়া যায়, যুগের পর যুগ এই পৃথিবীতে অনেক শক্তিধরের আবির্ভাব ঘটেছিল। পরাক্রমশালী সেই সকল শক্তিধর চিরকাল টিকে থাকতে পারে নাই। ঔদ্ধত্য আর বাড়াবাড়ির কারণে তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের অনেক ক্ষমতাবান, শক্তিশালী রাষ্ট্র যারা অন্য রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ, নিপীড়ন, ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা

 
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম: যথাযথভাবে জনগণের সেবা দিতে চান ইউএনও কাবেরী       বগুড়ার শেরপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকান       যে মাস থেকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা       ৩০ জুনই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা; জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি       ৫ম গণবিজ্ঞপ্তির প্রাথমিক সুপারিশ নিয়ে ফেসবুকে ‘গুজব’       নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তির সুযোগ        একাদশে ভর্তি আবেদনে ‘লিঙ্গ অপশন’ জটিলতা কেটেছে      
বিশ্বমানবতাকে রক্ষা করাই এসময়ের বড় চ্যালেঞ্জ
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২, ৬:১৩ পিএম |

পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাওয়া যায়, যুগের পর যুগ এই পৃথিবীতে অনেক শক্তিধরের আবির্ভাব ঘটেছিল। পরাক্রমশালী সেই সকল শক্তিধর চিরকাল টিকে থাকতে পারে নাই। ঔদ্ধত্য আর বাড়াবাড়ির কারণে তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের অনেক ক্ষমতাবান, শক্তিশালী রাষ্ট্র যারা অন্য রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ, নিপীড়ন, ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা এই সত্য মেনে নিতে চান না। যুদ্ধের লীলাখেলায় তারা ভুলে যান মানবিক সংকটের কথা। সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আক্রমণকারীরা সেই দেশের যোদ্ধাদের নিশ্চিহ্ন করতে যে ভয়াবহ রাসায়নিক হামলা চালিয়েছিল তার জের আজও দেশটি বয়ে বেড়াচ্ছে। প্রজন্ম হতে প্রজন্ম পর্যন্ত বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে,ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে অনেকেই। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের উপর ইসরাইলিদের ব্যাপক বোমাবর্ষণ আর ধ্বংসযজ্ঞেও। কিন্ত এর পরও পৃথিবীতে যুদ্ধ বন্ধ হয়নি বরংবেড়েই চলেছে।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাল রাশিয়া।ভ্লাদিমির পুতিনের এ পদক্ষেপ ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা এবং ইউরোপের শান্তি পদদলিত করেছে। ইউক্রেনের এ মানবিক বিপর্যয় আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, ভূরাজনীতি আসলে রাষ্ট্রীয় নৈরাজ্য, যেখানে সবলদের শিকার হয় দুর্বলেরা। প্রাথমিক ভাবে এ যুদ্ধের কারণ হচ্ছে সামরিক হঠকারিতা এবং একজন শীতলমাথার স্বৈরশাসকের নিজেকে ভুক্তভোগী ভাবার মানসিকতা।রুশ সমাজের গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে না পারার ব্যর্থতাও আরেকটা কারণ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা কি এ ট্র্যাজেডির দায় এড়াতে পারে? জর্জ কেনান থেকে শুরু করে হেনরি কিসিঞ্জার যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তববাদী নীতিনির্ধারকেরা বলে আসছেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাববলয়কে স্বীকার করে নিতে হবে।

সংঘাত যদি দীর্ঘ হয়, যদি চলতেই থাকে,তাহলে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে দেখব আমরা। স্পষ্টতই এই দৃশ্যকল্পের চরম সমাপ্তি হলো সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির বড় পতন। এটি শেষ পর্যন্ত ৯০ শতাংশ লোককে দারিদ্র্য সীমার নিচে বা সেখানে যাওয়ার উচ্চঝুঁকিতে ফেলতে পারে।এরই মধ্যে ৩০ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা। ইউএনএইচসিআর ৪০ লাখ শরণার্থীর জন্য সহায়তার পরিকল্পনা করলেও ইউক্রেন ছাড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাদের ধারণা। ইউক্রেনের অর্থনীতি গভীর মন্দার মুখোমুখি হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে চলমান রাশিয়ার আগ্রাসন মানবজীবনের ভয়াবহ ক্ষতি এবং দেশটির অর্থনীতিরও যথেষ্ট ক্ষতিসাধন করেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনের অর্থনীতি ন্যূনতম ১০ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পূর্বে ইরাক, লেবানন, সিরিয়া এবং ইয়েমেন থেকে সংগৃহীত যুদ্ধকালীন প্রকৃত জিডিপি সঙ্কোচনের তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা যায়, ইউক্রেনের অর্থনীতি ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সঙ্কুচিত হতে পারে। ফাঁপা আবেগ সরিয়ে দিলে রূঢ় সত্যটাও বেরিয়ে পড়ে। জেলেনস্কি সংকট নিরসন করতে এবং যুদ্ধ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়ে, সমর্থকদের সামনে ন্যাটোর সদস্যপদের মুলো ঝুলিয়ে, রাশিয়ার সঙ্গে নিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং পশ্চিমের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র চেয়ে-জেলেনস্কি সমস্যাটাকে আরও জটিল করে তুলেছেন। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন নিয়ে অনেকে অনেক ধারণা পোষণ করতে পারেন। কিন্তু রাশিয়ার প্রভাববলয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা নিয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা আরও বিচক্ষণ হতো, যদি ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ঐক্যবদ্ধ হতো এবং সংকট ব্যবস্থাপনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পারদর্শী হতেন, তাহলে ইউক্রেন ট্র্যাজেডি এড়ানো যেত।

প্রায় দুই বছর আগে বিশ্বব্যাপী সচেতন মহলে রব উঠেছিল যে করোনা-পরবর্তী বিশ্ব আর আগের মতো হবে না। পরিবর্তিত হবে বিশ্ব বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতিসহ যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত বিন্যাস। কারণ বিশ্বে সব দিক থেকে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। সুতরাং আগের আঞ্চলিক জোট, বিশ্বব্যবস্থা কিংবা বৃহৎ শক্তির কায়েমি স্বার্থগত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিশ্ব যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে, তেমনি মানবিক মূল্যবোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং এমনকি সম্পদের সুষম বণ্টনের ক্ষেত্রে অবক্ষয়ের প্রান্তসীমায় পৌঁছে গেছে। পরিবর্তিত হয়েছে পরাশক্তি কিংবা সামরিক শক্তি এবং বৈশ্বিক জোটগত বিভক্তির ধরন। এতে চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরান, তুরস্ক ও অন্যরা নতুন বৈশ্বিক নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে ক্রমেই ঝুঁকছে। প্রাচ্যে, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারতকে নিয়ে কোয়াড নামে যে জোট গঠন করেছিল, তাতে শেষ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে অন্যদের থাকা সম্ভব হবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি সিআইএর মতে, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান কখনো নিশ্চিত করা যাবে না। সম্প্রতি ব্রাসেলসে প্রদত্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ন্যাটোর মহাসচিব স্টলটেনবার্গ ইউক্রেন যুদ্ধে ন্যাটোর যে ভূমিকার কথা বলেছেন,সেটাকে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ চলমান যুদ্ধে পশ্চিমা সামরিক জোটের সরাসরি অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মেদভেদেভ বলেছেন, তাঁর অজ্ঞাতসারে ভুল করে হলেও স্টলটেনবার্গ স্বীকার করে নিয়েছেন, তাঁরা ইউক্রেন যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মার্কিন এফ-১৬ ও এফ-১৮ জঙ্গি বিমান থেকে এজিএম-৮৮সহ যে শক্তিশালী মিসাইল ব্যবহার করা হচ্ছে তার উল্লেখ করা হয়েছে।

তা ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাডার বিধ্বংসী যেসব মিসাইল বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তারও বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।এতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যমে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের গোপনে যুদ্ধ করার কথা এরই মধ্যে অনেকটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তদুপরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ন্যাটো সামরিক জোট তাদের আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে সময় যতই লাগুক না কেন।এতে শান্তিকামী, বিশেষ করে যুদ্ধবিরোধী মানুষ অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েছে। কারণ এই চলমান যুদ্ধ থামানো কিংবা এর একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসার কথা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ছাড়া এমনকি জাতিসংঘও জোর দিয়ে কিছু বলতে পারছে না। অথচ বিশ্বব্যাপী ক্রমে ক্রমে এখন নেমে আসছে অর্থনৈতিক মন্দার বিরূপ প্রভাব। এতে সাধারণ মানুষ দিন দিনই অসহায় হয়ে পড়ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিতর্ক অনেকটাই সরগরম হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকানদের কথা বাদ দিলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন ভয়ানক উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সাধারণ ডেমোক্র্যাটরা ভাবছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাবে। এতে না হবে জ্বালানি সংকটের সুরাহা, না হবে বিশ্ব পরিবেশ আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি। করোনা-পরবর্তী স্থবির বিশ্ব এ ধরনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সশস্ত্র সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত ছিল না। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য কিংবা পর্যটন খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতির স্বপ্ন ক্রমেই মুখ থুবড়ে পড়ছে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সমরবিশারদদের বেশির ভাগের মতে,দুই দেশের মধ্যে চলমান কোনো বড় সংঘর্ষ কিংবা যুদ্ধে কোনো তৃতীয় দেশের অন্তর্ভুক্তি কিংবা প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ার অর্থই হচ্ছে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সিরিয়া কিংবা ইয়েমেনে যা ঘটেছে বা ঘটছে তাকে আধুনিক সমর কৌশলের ভাষায় বলা হচ্ছে প্রক্সি ওয়ার।

কারণ সেই সংঘর্ষের প্রাথমিক অবস্থায় তৃতীয় কোনো দেশ সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ময়দানে নামেনি। বর্তমানে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ বা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রথম দিকে অবস্থা সে রকম থাকলেও, অর্থাৎ তৃতীয় কোনো ইউরোপীয় দেশ প্রত্যক্ষভাবে না জড়ালেও এখন ক্রমে ক্রমে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই দ্রুত পাল্টাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা রাশিয়া-ইউক্রেন সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রথম দিকে বলেছিলেন, এতে পশ্চিমা সামরিক জোটভুক্ত ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের প্রত্যক্ষভাবে জড়ানোর অর্থই হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ন্যাটোর নেতৃত্ব দানকারী পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্য ও অন্যরা এই চলমান সংঘর্ষের গোড়ায় বলেছিল, এতে তারা সরাসরিভাবে এই সংঘর্ষে যুক্ত হবে না। কারণ ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্যভুক্ত কোনো দেশ নয়। তবে রাশিয়ার অর্থাৎ তাদের ভাষায় আক্রমণকারী দেশের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে তারা সাহায্য করবে। কিন্তু এখন সেই বক্তব্যের মোড় অতি দ্রুততার সঙ্গে বাঁক নিচ্ছে অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতির দিকে। বিশাল ইউরোপীয় দেশ ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত রুশভাষী অধ্যুষিত অঞ্চল দোনেত্স্ক, লুহানস্ক কিংবা খেরসন ও জাফরেজিয়া অনেকাংশে দখল ও মূল রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সংযুক্ত করে নেওয়ার কারণে ন্যাটো নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন আসতে দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে উল্লিখিত অঞ্চলগুলোর সাংবিধানিকভাবে অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর মহাসচিব স্টলটেনবার্গের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন বিশ্বব্যাপী নতুনভাবে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। স্টলটেনবার্গ বলেছেন, রাশিয়ার কাছে ইউক্রেনের পরাজয় হবে ন্যাটো সামরিক জোটের পরাজয়। ইউক্রেনের মতো কৌশলগত অবস্থানে রাশিয়াকে কোনোভাবেই জয়ী হতে দেওয়া যাবে না। তাই ন্যাটোকে ইউক্রেনে দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য অবশ্যই তৈরি থাকতে হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বহুপক্ষীয় ক্ষমতার ভরকেন্দ্র নিশ্চিত করা, ডলারের একাধিপত্য কাটিয়ে ওঠা কিংবা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যকে নিষ্কণ্টক কিংবা তার পথ সুগম করতে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন এসসিওর শীর্ষ সম্মেলনটি কাঙ্ক্ষিতভাবেই হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন, ভারত, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ও অন্যরা আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যমে কাজ করছে বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, ইরান, তুরস্ক ও অন্যরা এই সম্মেলনটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী বিশ্বব্যবস্থা নির্ধারণ, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা প্রতিরোধ, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্নে একটি সুষম অর্থনৈতিক নীতিমালা ও কাঠামো গড়ে তোলা, পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বিশ্বকে রক্ষা করা কিংবা অবিনাশী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার হাত থেকে বিশ্বমানবতাকে রক্ষা করাই হোক এসসিওর শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য। ভারতবর্ষে রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধে অজস্র মানুষের মৃত্যু আর যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে সম্রাট অশোক যুদ্ধের নীতি পরিহার করে তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন, মনোনিবেশ করেছিলেন ধর্মকর্মে-যাতে করে মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা হতে রক্ষা পায়। আজকের দুনিয়ায় শক্তিধর ও ক্ষমতাবান রাষ্ট্রগুলির নীতিনির্ধারক যারা রয়েছেন তাদের বোধোদয় আসবে কি না-তা আমরা বলিতে পারি না; কিন্তু যুদ্ধের এই প্রলয়ংকরী, বিভীষিকাময় পরিস্হিতিতে সৃষ্ট মানবিক সংকটে নিরপেক্ষ থাকবার অবকাশ নেই। কারণ কাল যে আপনার উপর বোমা হামলা হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা সকল প্রকার যুদ্ধবিগ্রহ, হামলা, আগ্রাসন, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে বিশ্বের সকল শান্তিকামী মানুষ ব্যথিত। তাই হামলা-আগ্রাসন পরিহার করে বিশ্ব যাতে মানুষের জন্য বাসযোগ্য স্হানে পরিণত হয় বিশ্বনেতৃবৃন্দকে সেই পথেই অগ্রসর হতে হবে।



লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট ।

বিডি ক্যাম্পাস/সিআর/এমকে










 সর্বশেষ সংবাদ

যথাযথভাবে জনগণের সেবা দিতে চান ইউএনও কাবেরী
বগুড়ার শেরপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকান
যে মাস থেকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
৩০ জুনই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা; জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি
৫ম গণবিজ্ঞপ্তির প্রাথমিক সুপারিশ নিয়ে ফেসবুকে ‘গুজব’
নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তির সুযোগ
একাদশে ভর্তি আবেদনে ‘লিঙ্গ অপশন’ জটিলতা কেটেছে
আরো খবর ⇒

 সর্বাধিক পঠিত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বাড়ানো নিয়ে যা জানা গেল
শনিবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
বেসরকারি স্কুলের ভর্তি ফি সরকারি কোষাগারে জমার নির্দেশ
৫ম গণবিজ্ঞপ্তির প্রাথমিক সুপারিশ নিয়ে যা জানাল এনটিআরসিএ
যে মাস থেকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
৯৬ হাজার পদের বিপরীতে আবেদন মাত্র ২৩ হাজার; খালি পদ পূরণে যা জানাল এনটিআরসিএ
নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তির সুযোগ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল-১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২
ই মেইল : bd-campus@gmail.com, bd-campus@yahoo.com