BD Campus || Online Newsportal in Bangladesh

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অহিদা পাপড়ি। এর বাইরে তার আরও একটি পরিচয় আছে। শিক্ষাকতার পাশাপাশি তিনি একজন স্কুটি প্রশিক্ষকও। অসংখ্য নারীকে তিনি স্কুটি চালানো শিখিয়েছেন।পটুয়াখালী শহরের থানাপাড়া এলাকার ফরহাদ হোসাইন খানের স্ত্রী অহিদা পাপড়ি। চর জৈনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজে স্কুটি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন অন্য নারীদের

 
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম: যথাযথভাবে জনগণের সেবা দিতে চান ইউএনও কাবেরী       বগুড়ার শেরপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকান       যে মাস থেকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা       ৩০ জুনই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা; জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি       ৫ম গণবিজ্ঞপ্তির প্রাথমিক সুপারিশ নিয়ে ফেসবুকে ‘গুজব’       নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তির সুযোগ        একাদশে ভর্তি আবেদনে ‘লিঙ্গ অপশন’ জটিলতা কেটেছে      
দিনে স্কুলশিক্ষিকা, রাতে স্কুটি প্রশিক্ষক অহিদা পাপড়ি
বিডি ক্যাম্পাস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২, ৯:৪৬ এএম আপডেট: ১৭.১১.২০২২ ৯:৫৪ এএম |

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অহিদা পাপড়ি। এর বাইরে তার আরও একটি পরিচয় আছে। শিক্ষাকতার পাশাপাশি তিনি একজন স্কুটি প্রশিক্ষকও। অসংখ্য নারীকে তিনি স্কুটি চালানো শিখিয়েছেন।  

পটুয়াখালী শহরের থানাপাড়া এলাকার ফরহাদ হোসাইন খানের স্ত্রী অহিদা পাপড়ি। চর জৈনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজে স্কুটি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন অন্য নারীদের স্কুটি চালানো শেখান।

দিনে শিক্ষকতা শেষ করে সন্ধ্যা ৭টা থেকে পটুয়াখালী শহরের ঝাউবন এলাকায় স্কুটি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। শুক্র ও শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে পটুয়াখালী খেলার মাঠ ও এয়ারপোর্ট এলাকায় নারীদের স্কুটি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। প্রশিক্ষণের জন্য দুটি স্কুটি রয়েছে তার। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ধরনের ইকুপমেন্ট ব্যবহার করেন তিনি।

জানা যায়, স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই শিক্ষকতা পেশায় থাকায় সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে সমস্যায় পড়তেন তারা। এছাড়াও বাসা থেকে নিজের কর্মস্থানের দূরত্ব বেশি থাকায় রিকশা ভাড়াও বেশি খরচ হতো। তাই দুর্ভোগ কমানোর জন্য তিন বছর আগে স্বামীর কাছ থেকে স্কুটি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অহিদা পাপড়ি। এখন নিজের‌ স্কুলে যাওয়ার পথে সন্তানদেরকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে যান। আবার স্কুল থেকে ফেরার পথে সন্তানদেরকে নিজেই নিয়ে আসেন বাসায়। বিভিন্ন ছুটিতে ঘুরতে যাওয়া ও কেনাকাটা করতে সন্তানদের নিয়ে একাই স্কুটি চালিয়ে মার্কেটে চলে যান। নিজে সুবিধা উপভোগ করার পরে শহরের অন্যান্য নারীদের অনুপ্রাণিত করতে লেডি বাইকার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে বসেন। এখন পর্যন্ত তার কাছে ৫০ জনের মতো নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। 

প্রশিক্ষণার্থী সোনিয়া আফরোজ তন্নী বলেন, আমি মেডিকেল কলেজে চাকরি করি। আমার বাসা থেকে কর্মস্থল অনেক দূর। প্রতিদিন আমার আসা-যাওয়া করতে প্রায় একশ টাকার মতো খরচ হয়ে যায়। আবার রিকশায় চলাফেরা করলে অনেক সময় লেগে যায়। এই অসুবিধার কথা চিন্তা করেই আমি স্কুটি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমি এখন মোটামুটি স্কুটি নিয়ে চলাচল করতে পারি। স্কুটি চালানো আমার অনেক বড় একটি অর্জন।

আরেকজন সালমা আক্তার বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার মোটরসাইকেল চালানোর ইচ্ছা ছিল। আমি যখন দেখেছি পটুয়াখালীতে এরকম একজন নারী স্কুটি চালানোর প্রশিক্ষণ দেয় আমি সাথে সাথে যোগাযোগ করি এবং স্কুটি চালানোর প্রশিক্ষণটা নিয়েছি। আমার কাছে এখন খুবই ভালো লাগছে আমি নিজেই স্কুটি কিনেছি এবং সেটা দিয়ে বরিশাল ও কুয়াকাটা পর্যন্ত গিয়েছি।

অহিদা পাপড়ির স্বামী ফরহাদ হোসাইন খান বলেন, আমার স্ত্রী স্কুটি চালানোর ফলে তার প্রতিদিনের যে যাতায়াত খরচ সেটা সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়াও বাচ্চাদেরকে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে যে খরচটা হত সেটাও কমে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার পরে আমাদের আলাদা একটি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে। যেটা সঞ্চয় করতে সহযোগিতা করেছে।

প্রশিক্ষক অহিদা পাপড়ি বলেন, আমি পেশায় একজন শিক্ষক আমার স্কুলটা বাসা থেকে অনেক দূর সেখানে যেতে হলে আমাকে রিজার্ভ রিকশা নিয়ে যেতে হত। তারপর আবার মাঝে মাঝে আমার সন্তানদেরকে স্কুলে নামিয়ে দিতে হয়। এই কথা চিন্তা করে আমি নিজে স্কুটি চালানোর উদ্যোগ নেই। আমার স্বামীও এই শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। দুজনেই ব্যস্ত থাকায় দুজনের সুবিধার্থে এই স্কুটি প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি সহজে চলাচল করছি। এরপরে দেখলাম আমি যে সুবিধা পেয়েছি অন্য নারীদেরকেও এই সুবিধা দেয়া যায় কিনা। কারণ অনেক মেয়েরাই চান মোটরসাইকেল বা স্কুটি চালাতে। ভালো নারী প্রশিক্ষকের চাহিদা রয়েছে আমাদের এই পটুয়াখালীতে। 


তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দিক চিন্তা করে আমি নিজেই লেডি বাইকার নামে একটি পেজ খুলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। এতে করে আমার পরিবারে উপার্জনের পথ খুলেছে। দিনের বেলা আমি যেহেতু শিক্ষাকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকি, এজন্য রাতের বেলা এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি এতে করে দেখা যায় অনেক কর্মজীবী নারীরা যারা দিনের বেলা ব্যস্ত থাকেন তারা রাতে প্রশিক্ষণ নেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোজাম্মেল নাসরিন এমা বলেন, যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং যারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে আমি তাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করছি। পটুয়াখালীতে এরকম প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে সেটা সত্যিই গর্ব করার মতো। আমি দূর থেকে দেখেছি খুব সুন্দরভাবে নারীদেরকে স্কুটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেটা অনেক সুন্দর ও সাহসিকতার কাজ। স্কুটি চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে টাকা অ সময় দুটোই বাঁচে।


বিডি ক্যাম্পাস/সিআর/জেড এইচ







আরও খবর


 সর্বশেষ সংবাদ

যথাযথভাবে জনগণের সেবা দিতে চান ইউএনও কাবেরী
বগুড়ার শেরপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকান
যে মাস থেকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
৩০ জুনই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা; জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি
৫ম গণবিজ্ঞপ্তির প্রাথমিক সুপারিশ নিয়ে ফেসবুকে ‘গুজব’
নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তির সুযোগ
একাদশে ভর্তি আবেদনে ‘লিঙ্গ অপশন’ জটিলতা কেটেছে
আরো খবর ⇒

 সর্বাধিক পঠিত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বাড়ানো নিয়ে যা জানা গেল
শনিবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
বেসরকারি স্কুলের ভর্তি ফি সরকারি কোষাগারে জমার নির্দেশ
৫ম গণবিজ্ঞপ্তির প্রাথমিক সুপারিশ নিয়ে যা জানাল এনটিআরসিএ
যে মাস থেকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
৯৬ হাজার পদের বিপরীতে আবেদন মাত্র ২৩ হাজার; খালি পদ পূরণে যা জানাল এনটিআরসিএ
নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তির সুযোগ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল-১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২
ই মেইল : bd-campus@gmail.com, bd-campus@yahoo.com